sa.gif

২২ মে: গার্মেন্টস শ্রমিক বিদ্রোহের এক যুগ
জাফর আহমদ :: 10:16 :: Sunday May 14, 2017 Views : 38 Times

আগামী ২২ মে শ্রমিক বিদ্রোহের এক যুগ পদার্পন করতে যাচ্ছে। ২০০৬ সালের এই দিনে আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিদ্রোহ করেছিল।  বাঁচার মত মজুরি, নিয়োগপত্র প্রদান, ছাঁটাই বন্ধ ও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে  আশুলিয়ার সব কারখানা থেকে শ্রমিকরা এক যোগে  বের হয়ে পড়েছিল। আশুলিয়ার ইউনিভার্সেল কারখানা থেকে এ বিদ্রোহ শুরু হয়ে আশুলিয়ার প্রতিটি কারখানায় এ অগ্নি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন প্রশাসন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।

আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল মাওনার এসকিইউ সোয়েটারে ছাঁটাই বন্ধে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। ২০০৬ সালের ১০ মে ওই কারখানা থেকে আন্দোলন শুরু করেছিল মোশরেফা মিশুর গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম। একই সময়ে আশুলিয়ার ইউনিভার্সেল সোয়েটার কারখানা আন্দোলন করছিল ইদ্রিশ আলীর নেতৃত্বাধিন গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি‘র সাভার-আশুলিয়া শাখা। এ সময়ে গার্মেন্ট টিইউসির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মোটিভেটেড সভা করছিল। আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ,  বগাবাড়ী, জামগড়া প্রাইমারি স্কুলসহ বিভিন্ন মেসে তাদের সভাগুলো চলছিল। সংগঠনটির কেন্দ্রীয সভাপতি ইদ্রিশ আলী সে সময় আশুলিয়ায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের সংগঠিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সে সময়ের বিভিন্ন সভায় শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, ডা. ওয়াজেদুল  ইসলাম খান, অধ্যাপক এম এম আকাশসহ শ্রমিক নেতারা উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের আদর্শিক প্রশিক্ষন দিতেন। সে সময়ে  গার্মেন্ট টিইউসির সাভার আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক কেএম মিন্টু সার্বক্ষনিক সংগঠক হিসাবে কাজ করতেন ।   

এ সময় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাভার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আলী রেজা তুহিন চৌধুরী ইউনিভার্সেল সোয়েটার কারখানাতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই আন্দোলনটা ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো আশুলিয়ায়। সেদিন পুরো আশুলিয়া অগ্নিপিন্ডে পরিনত হয়। বন্ধ হয়ে যায় আশুলিয়া সড়ক,দোকান পাঠ-সব কিছু। সড়কের বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও কারখানাতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের উত্তাপে গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংহতি জানাতে শ্রমিকরা আসতে থাকে। আশে-পাশের বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরাও যোগ দেয় বিক্ষোভে। কারখানা মালিকদের নির্যাতন ও অন্যায় ছাঁটাইয়ের শিকার হয়ে যে সব শ্রমিক আশে পাশে বিভিন্ন পেশা বেছে নিয়ে জীবন নির্বাহ করছিল তারাও সেদিন যোগ দেন এই বিদ্রোহে। এ বিদ্রোহ বিভিন্ন দাবিতে শুরু হলেও তা ছড়িয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। গার্মেন্ট শ্রমিক সলিডারিটিসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা বেরিয়ে আসে। গার্মেন্ট মালিকদের শোষণ বঞ্চনা ও নিপীড়নে অতিষ্ট শ্রমিকরা প্রতিশোধ হিসাবে এই বিক্ষোভে বিদ্রোহে সামিল হয়। আন্দোলনের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌছে যে, এই প্রতিবেদক সেদিন ফোনে কথা বলতে চাইলে অনেক শ্রমিক নেতা তাদের সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে।

এ আন্দোলনে তৎকালিন বিএনপি-জামাত অনেকটা দিশেহারা পড়ে। পোশাক কারখানাসমূহে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকর না থাকার কারণে আন্দোলনের নির্দিষ্ট দাবি দাওয়া বা নেতাকেও পাওয়া যাচ্ছিলো।  সমস্যার  সমাধান খুঁজতে তৎকালিন সরকারের প্রভাবশালী নেতারা সচিবালয়ে বৈঠক বসে। জাতীয় আন্দোলনের শ্রমিক নেতাদের সুত্র ধরে আশুলিয়া ও ইউনিভার্সেল সোয়েটার কারখানার নেতাদের ডেকে এনে ওই বৈঠকে বসানো হয়।  এ আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে সরকার ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রম আইন ২০০৬ করতে বাধ্য হয়। এ বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।

আসছে ২২ মে বিদ্রোহের এক যুগ পূর্তিতে দিনটা  যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করবে সে সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া বিভিন্ন সংগঠন। জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম সমাবেশ করবে গাজীপুরে। আশুলিয়ায় কর্মসূচি পালনে বাধা-নিষেধ থাকার কারণে স্বল্প পরিসরে দিনটিকে স্মরণ করবে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। এই কর্মসূচিতে গার্মেন্টস শ্রমিকের পাশাপাশি রিকসা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অংশ গ্রহণ করবে। ইউনিভার্সেলের সেই সময়ের শ্রমিক নেতা, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের তৎকালিন সাভার আঞ্চলিক সভাপতি এবং বর্তমানে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি তুহিন চৌধুরী ঘরোয়াভাবে দিনটি পালন করবে। তবে ইউনিভার্সেলে যে ১১ জন শ্রমিক নেতা আন্দোলনকে কারখানার মধ্য থেকে বাইরে ছেিড়য় দিয়েছিল তারা অনেকেই নেই এই পেশাতে।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution