sa.gif

বাবা বলতেন ছেলে আন্টুর জীবনের বিনিময়ে স্বাধীন দেশ পেয়েছি
একেএম ফজলুল হক কবিরাজ, চেয়ারম্যান :: 01:21 :: Saturday December 16, 2017 Views : 17 Times

বিজয় লাভের দুই সপ্তাহ মত আগে আমার ভাই শহীদ আজিজুল ইসলাম আন্টু শহীদ হন। আমরা তখন শরনার্থী হিসাবে ভারতে ছিলাম। আমার বাবা যখন জানতে পারেন প্রথমে তিনি তাঁর আদরের সন্তান আন্টুর জন্য যতটা কেঁদেছেন তার চেয়ে বেশি কেঁদেছেন স্বাধীনতার জন্য, কখন বিজয় আসবে। তারপর স্বাধীনতা যখন এলো তখন বাবা বলতেন আমার সন্তান দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, এতে আমি দুঃখিত নই। দেশ পেয়েছি। আমার তিনটা ছেলের মধ্যে একটিকে পাক হানাদাররা হত্যা করেছে। আরও দুটি আছে। কিন্তু যার একটি সন্তান ছিল এবং তাকেই হত্যা করেছে, তার কেউ নেই। আমার সন্তানের মত লক্ষ সন্তানের জীবনের রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা এসেছে।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমার ভাই শহীদ আজিজুল ইসলাম আন্টু তখন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিএ ক্লাসের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ভাইয়ের বন্ধু মহিউদ্দিন পাকুও একই কলেজের ছাত্র ছিলেন। এবং ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তারা ভারতে ট্রেনিংয়ের জন্য চলে যান। মধ্য প্রদেশের দেরাদুনে ট্রেনিং শেষে মাতৃভূমিকে দখলদার মুক্ত করার জন্য, স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। সাথে ভাইয়ের বন্ধু পাকুও ছিলেন। যুদ্ধকালিন সময়ে আমার ভাই আন্টু ও পাকুকে পাক হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করে। সে সময় হোসেনাবাদে (বর্তমান যেখানে ভোকেশনাল ) আর্মি ক্যাম্প ছিল। গ্রেফতার করার পর তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে শুনেছি গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পাকিস্তানি আর্মিদের আমার ভাইকে বলেছিল, আমি বাংলাদেশ স্বাধীন চাই। আর আমার বাবার নাম জানার চেষ্টা করিশনা তোর যে বাবাকে ধরেছিস যা বলার তাকে বল। এরপর পাক হানাদাররা নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার ভাই আন্টুকে হত্যা করে আমার হোসেনাবাদের আর্মি ক্যাম্পের পাশেই বধ্যভূমিতে কবর দেয়। এরপর পাকু ভাই কয়েকদিন বেঁচে ছিলেন। তাকে গাড়ীতে করে ফিলিপনগরে নিয়ে এসে নির্যাতন করতো। পরে পাকু ভাইকেও পাক হানাদাররা হত্যা করে।
আজ বিজয়ের ৪৬ বছর। ৩০ লাখ আন্টু-পাকুর জীবন আর ২০ লাখ মা-বোনের মান-সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। পাকিস্তানিরা এই বাংলাদেশকে শোষণ করতো। আমরা সম্পদে ও জনসংখ্যায় বেশি ছিলাম। স্বাধীনতা পূর্ব আমাদের শোষণ করে পশ্চিম পাকিস্তানে তারা উন্নয়ন করতো। বাংলাদেশ বঞ্চিত থাকতো। শাসণের ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে ছিল। সব দিকে থেকেই আমরা বঞ্চিত ছিলাম।স্বাধীনতার ৪৬ বছরে আমরা অনেক এগিয়েছি। বর্তমানে বঙ্গব›ন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ বছর প্রায় চার লাখ কোটি টাকার বাজেট হবে। এই ফিলিপনগরে ১২২কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। নদী ভাঙ্গনে ফিলিপনগরের মানুষ দিশেহারা ছিলাম। এখন সেই নদীকে শাসন করেছি। এটা আমাদের স্বাধীনতার ফসল। আগামীতে আরও প্রায় শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হবে। সামাজিক উন্নয়ন সূচকেও আমরা অনেক এগিয়েছি। এখন বিশে^র বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল মনে করে। এটাই হলো আমাদের স্বাধীনতার ফসল। ক্ষুধামুক্ত উন্নত দেশ হলে তবেই আমরা পুরোপুরি লক্ষ্যে পৌছতে পারবো। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পুরোপুরি যখন লক্ষ অর্জন করতে পারবো সেদিনই আন্টু পাকুসহ মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন দেওয়া সার্থক হবে। আমরা সেই দিনের জন্য কাজ কওে যাচ্ছি।

# একেএম ফজলুল হক কবিরাজ: চেয়ারম্যান, ৩ নম্বর ফিলিপনগর ইউপি,কুষ্টিয়া।  



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution