পৃৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ অতি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় দেশ হওয়া স্বত্বেও অর্থনীতি ও জীবন যাত্রার মানের দিক থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। তবে তা, এই পিছিয়ে পড়া অর্থনীতি বিশেষ করে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। যদি না, কোন টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহন না করা হয়। গ্রামীণ জনগণকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায়।
সীমিত সম্পদের মধ্যে থেকেও এই সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কিভাবে উন্নত জীবনের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা যায়। তাই হল এই মডেলের মূল উদেশ্য। বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় প্রতি বছর প্রায় ৭০ ভাগের বেশি ভূমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে গ্রামের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বন্যার পানি দ্বারা খণ্ডকালীন বেকারত্বসহ ও ব্যাপক ভাবে আর্থিক ও জানমালের ক্ষতি হয়। ফলে সরকারের সদিচ্ছা থাকা স্বত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাকাটা সেভাবে ঘুরছেনা। ফলে গ্রামীণ মানুষের জীবন যাত্রার
মান তেমন কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। গ্রামীণ মানুষের জীবন একটি দারিদ্র্য চক্রের মধ্য দিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই “উন্নত গ্রামে আধুনিক জীবন” মডেলের মূল উদ্দেশ্য হল গ্রামীণ মানুষকে দারিদ্র্য চক্রের মধ্য থেকে বের করে নিয়ে আসা এবং উন্নত জীবনের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। এ মডেলটি মূলত বাংলাদেশের ৮৭,৩২০ টি গ্রামের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের মডেল। তাই উন্নত জীবন ও শক্তিশালী অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের ৮৭,৩২০ টি গ্রামকে ১,৬০০ টি উন্নত গ্রামে পরিণত করা। অর্থাৎ ৬৪ টি জেলাকে গড়ে ২৫ টি করে উন্নত গ্রামের আদলে গড়ে তোলা। প্রতিটি উন্নত গ্রামে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা। এক্ষেত্রে পদ্মা ও অন্যান্য বড় নদীগুলো থেকে বালু তুলে নির্ধারিত অঞ্চলগুলো ভরাট করে প্রতিটি পরিবারকে ৩ ও ৫ কাঠা জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা। এতে পদ্মা নদীর গভীরতা বাড়বে পাশাপাশি বন্যা কমবে। ফলে বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটবে। প্রতিটি উন্নত গ্রাম হবে এক একটি পর্যটন কেন্দ্র্র।
“উন্নত গ্রামে আধুনিক জীবন” মডেলেটি গ্রামীণ মানুষের অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে বিষয় গুলোর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাবে সেগুলো হল জনসংখ্যা, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, গ্যাস/ জ্বালানি, কৃষি উন্নয়ন, গৃহায়ন ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ফায়ার সার্ভিসের সেবা, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস, সামাজিক নিরাপরত্তা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, দুর্নীতি হ্রাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি।
উদাহরণ হিসেবে শরীয়তপুর জেলাকে ধরা যাক, ১,১৮১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শরীয়তপুর জেলায় ৬৫ টি ইউনিয়নে ১,২৪৩ টি গ্রামে ২,৪৭,৮৮০ টি পরিবার রয়েছে। এই ১,২৪৩ টি গ্রাম অপরিকল্পিত ও বিক্ষিপ্ত ভাবে এক একটি দ্বীপের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ফলে সরকারের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা থাকা সত্তে¡ও কোন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সহজেই তাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না কিংবা পাচ্ছে না। তাই গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনমানকে উন্নত করার লক্ষে্য শরীয়তপুর জেলার ১,২৪৩ টি গ্রামের মানুষকে যদি ২৫ টি উন্নত গ্রামে পরিনত করা যায়, তাহলে সহজেই যেকোনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব।
এ হিসেবে দেখা যায় ২,৪৭,৮৮০ টি পরিবারকে ২৫ টি উন্নত গ্রামে ভাগ করলে গড়ে প্রতিটি গ্রামে প্রায় ৯,৯১৬ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা যায়। এক্ষেতে প্রতি ১ ( এক) বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৩,০০০ ( তিন হাজার ) পরিবারকে বাড়ি নির্মাণের জন্য গড়ে ৩ ও ৫ কাঠা করে জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। প্রতিটি বাড়ির জমির মূল্য গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা, প্লট ভরাট করতে ১ থেকে ২ লাখ টাকা এবং পাকা ঘর নির্মাণের জন্য গড়ে ৪-৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি বাড়ি তৈরি করতে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে প্রয়োজন হবে। পদ্মার চর থেকে বালু উত্তোলন করে এ সকল পুনর্বাসন কেন্দ্র ভরাট করা যেতে পারে। ফলে গড়ে প্রতিটি উন্নত গ্রামের জন্য গড়ে ৩ (তিন) বর্গ কিলোমিটার কওে জায়গা প্রয়োজন হবে। এ হিসেবে শরীয়তপুর জেলার মোট ২৫ টি উন্নত গ্রামের জন্য ৭৫ বর্গ কিলোমিটার ভূমির প্রয়োজন হবে। যা শরীয়তপুর জেলার মোট আয়তনের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আর সারা বাংলাদেশে গ্রামে বসবাসকারী মোট ২,৪৬,৭১,৫৯০ টি পরিবারকে ১৬০০ টি উন্নত গ্রামে পুনর্বাসনের জন্য মোট ভূমির প্রয়োজন হবে ৭,৪৬৫ বর্গ কিলোমিটার যা দেশের মোট আয়তনের ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। সারা দেশে ১,৬০০ টি উন্নত গ্রামের মাধ্যমে মডেলটি বাস্তবায়ন করলে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ উন্নয়ন বাজেট নির্ধারণ করা হয় তার ৭০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হবে। কৃষি জমি বৃদ্ধি পাবে।
আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অপরদিকে নদীগুলোর থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাবে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় থেকে আসা পানি সহজে বঙ্গোপসাগওে নেমে যেতে পারবে। নদী ভাঙ্গন হ্রাস পাবে। বন্যার পরিমাণ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষদতর পরিমাণ হ্রাস পাবে। নদীর গভীরতা বাড়ানোর জন্য সরকারের যে অর্থ ব্যয় করতে হতো তা সাশ্রয় হবে। কেননা যেহেতু বালুগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্র ভরাটের জন্য ব্যবহার হবে, তাই জনগণ জমি ভরাটের জন্য টাকা দিবে। অর্থাৎ বিনা খরচে নদী খনন হবে আবার দেশের প্রতিটি গ্রামকে উন্নত গ্রামে পরিণত করা যাবে।
ফলে এই মডেলের আদলে গ্রামব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবনমানের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এ মডেল বাস্তবায়ন প্রকৃয়া শুরু করলে দেশের উন্নয়ন হবে গাণিতিক হারে, আর যদি এ মডেল বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে দেশ পিছিয়ে পড়বে জ্যামিতিক হারে।
এই মডেলের আদলে দেশ গড়ে তোলা হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

স্বপন ব্যাপারি: তরুন সমাজ বিজ্ঞানি

" />
sa.gif

উন্নত গ্রামে আধুনিক জীবন: গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেল
স্বপন ব্যাপারি :: 02:17 :: Wednesday January 10, 2018



পৃৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ অতি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় দেশ হওয়া স্বত্বেও অর্থনীতি ও জীবন যাত্রার মানের দিক থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। তবে তা, এই পিছিয়ে পড়া অর্থনীতি বিশেষ করে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। যদি না, কোন টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহন না করা হয়। গ্রামীণ জনগণকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায়।
সীমিত সম্পদের মধ্যে থেকেও এই সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কিভাবে উন্নত জীবনের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা যায়। তাই হল এই মডেলের মূল উদেশ্য। বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় প্রতি বছর প্রায় ৭০ ভাগের বেশি ভূমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে গ্রামের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বন্যার পানি দ্বারা খণ্ডকালীন বেকারত্বসহ ও ব্যাপক ভাবে আর্থিক ও জানমালের ক্ষতি হয়। ফলে সরকারের সদিচ্ছা থাকা স্বত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাকাটা সেভাবে ঘুরছেনা। ফলে গ্রামীণ মানুষের জীবন যাত্রার
মান তেমন কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। গ্রামীণ মানুষের জীবন একটি দারিদ্র্য চক্রের মধ্য দিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই “উন্নত গ্রামে আধুনিক জীবন” মডেলের মূল উদ্দেশ্য হল গ্রামীণ মানুষকে দারিদ্র্য চক্রের মধ্য থেকে বের করে নিয়ে আসা এবং উন্নত জীবনের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। এ মডেলটি মূলত বাংলাদেশের ৮৭,৩২০ টি গ্রামের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের মডেল। তাই উন্নত জীবন ও শক্তিশালী অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের ৮৭,৩২০ টি গ্রামকে ১,৬০০ টি উন্নত গ্রামে পরিণত করা। অর্থাৎ ৬৪ টি জেলাকে গড়ে ২৫ টি করে উন্নত গ্রামের আদলে গড়ে তোলা। প্রতিটি উন্নত গ্রামে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা। এক্ষেত্রে পদ্মা ও অন্যান্য বড় নদীগুলো থেকে বালু তুলে নির্ধারিত অঞ্চলগুলো ভরাট করে প্রতিটি পরিবারকে ৩ ও ৫ কাঠা জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা। এতে পদ্মা নদীর গভীরতা বাড়বে পাশাপাশি বন্যা কমবে। ফলে বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটবে। প্রতিটি উন্নত গ্রাম হবে এক একটি পর্যটন কেন্দ্র্র।
“উন্নত গ্রামে আধুনিক জীবন” মডেলেটি গ্রামীণ মানুষের অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে বিষয় গুলোর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাবে সেগুলো হল জনসংখ্যা, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, গ্যাস/ জ্বালানি, কৃষি উন্নয়ন, গৃহায়ন ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ফায়ার সার্ভিসের সেবা, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস, সামাজিক নিরাপরত্তা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, দুর্নীতি হ্রাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি।
উদাহরণ হিসেবে শরীয়তপুর জেলাকে ধরা যাক, ১,১৮১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শরীয়তপুর জেলায় ৬৫ টি ইউনিয়নে ১,২৪৩ টি গ্রামে ২,৪৭,৮৮০ টি পরিবার রয়েছে। এই ১,২৪৩ টি গ্রাম অপরিকল্পিত ও বিক্ষিপ্ত ভাবে এক একটি দ্বীপের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ফলে সরকারের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা থাকা সত্তে¡ও কোন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সহজেই তাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না কিংবা পাচ্ছে না। তাই গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনমানকে উন্নত করার লক্ষে্য শরীয়তপুর জেলার ১,২৪৩ টি গ্রামের মানুষকে যদি ২৫ টি উন্নত গ্রামে পরিনত করা যায়, তাহলে সহজেই যেকোনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব।
এ হিসেবে দেখা যায় ২,৪৭,৮৮০ টি পরিবারকে ২৫ টি উন্নত গ্রামে ভাগ করলে গড়ে প্রতিটি গ্রামে প্রায় ৯,৯১৬ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা যায়। এক্ষেতে প্রতি ১ ( এক) বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৩,০০০ ( তিন হাজার ) পরিবারকে বাড়ি নির্মাণের জন্য গড়ে ৩ ও ৫ কাঠা করে জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। প্রতিটি বাড়ির জমির মূল্য গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা, প্লট ভরাট করতে ১ থেকে ২ লাখ টাকা এবং পাকা ঘর নির্মাণের জন্য গড়ে ৪-৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি বাড়ি তৈরি করতে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে প্রয়োজন হবে। পদ্মার চর থেকে বালু উত্তোলন করে এ সকল পুনর্বাসন কেন্দ্র ভরাট করা যেতে পারে। ফলে গড়ে প্রতিটি উন্নত গ্রামের জন্য গড়ে ৩ (তিন) বর্গ কিলোমিটার কওে জায়গা প্রয়োজন হবে। এ হিসেবে শরীয়তপুর জেলার মোট ২৫ টি উন্নত গ্রামের জন্য ৭৫ বর্গ কিলোমিটার ভূমির প্রয়োজন হবে। যা শরীয়তপুর জেলার মোট আয়তনের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আর সারা বাংলাদেশে গ্রামে বসবাসকারী মোট ২,৪৬,৭১,৫৯০ টি পরিবারকে ১৬০০ টি উন্নত গ্রামে পুনর্বাসনের জন্য মোট ভূমির প্রয়োজন হবে ৭,৪৬৫ বর্গ কিলোমিটার যা দেশের মোট আয়তনের ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। সারা দেশে ১,৬০০ টি উন্নত গ্রামের মাধ্যমে মডেলটি বাস্তবায়ন করলে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ উন্নয়ন বাজেট নির্ধারণ করা হয় তার ৭০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হবে। কৃষি জমি বৃদ্ধি পাবে।
আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অপরদিকে নদীগুলোর থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাবে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় থেকে আসা পানি সহজে বঙ্গোপসাগওে নেমে যেতে পারবে। নদী ভাঙ্গন হ্রাস পাবে। বন্যার পরিমাণ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষদতর পরিমাণ হ্রাস পাবে। নদীর গভীরতা বাড়ানোর জন্য সরকারের যে অর্থ ব্যয় করতে হতো তা সাশ্রয় হবে। কেননা যেহেতু বালুগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্র ভরাটের জন্য ব্যবহার হবে, তাই জনগণ জমি ভরাটের জন্য টাকা দিবে। অর্থাৎ বিনা খরচে নদী খনন হবে আবার দেশের প্রতিটি গ্রামকে উন্নত গ্রামে পরিণত করা যাবে।
ফলে এই মডেলের আদলে গ্রামব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবনমানের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এ মডেল বাস্তবায়ন প্রকৃয়া শুরু করলে দেশের উন্নয়ন হবে গাণিতিক হারে, আর যদি এ মডেল বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে দেশ পিছিয়ে পড়বে জ্যামিতিক হারে।
এই মডেলের আদলে দেশ গড়ে তোলা হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

স্বপন ব্যাপারি: তরুন সমাজ বিজ্ঞানি



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution