sa.gif

বেড়েই চলেছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা, বর্তমানে দেড় কোটির ওপরে
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 19:42 :: Wednesday March 7, 2018 Views : 28 Times

সবুজ মিয়ার (১৩) এক হাত হিউম্যান হলারের পিছনের রডে জড়ানো। আরেক হাতে সাংকেতিক থাবা দিয়ে গাড়ির গতি থামানো। এর মধ্যেই যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়। খুদে এই কন্ডাক্টর ঢাকা মহানগরীর শ্যামলী রুটে কিশোর বেলা থেকেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। মাঝারি কারখানায় ঘূর্ণন চাকার কাছেও কাজ করতে দেখা যায় শিশু শ্রমিককে। বিড়ি ফ্যাক্টরির বিষাক্ত তামাক পাতার মধ্যেও কাজ করছে শিশুরা। এর বাইরে নানা ধরনের কাজে নিয়োজিত আছে শিশু শ্রমিক। দেশে যে সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। দিনে দিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশু শ্রমিকের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে।

শ্রম ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের নারী ও শিশুশ্রম শাখার সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি’ থাকবে। ২৪ সদস্যের এই কমিটির উপদেষ্টা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সভাপতি জেলা প্রশাসক। কমিটি নিজ নিজ জেলার শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। এর বাইরে বাংলাদেশ শ্রম আইনে শিশুশ্রম বন্ধে আইন রয়েছে। শ্রম আদালতের আইনে অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- ও অর্থদ-ের বিধান আছে।

এক জরিপে বলা হয়েছে, শিশু শ্রমিকের ৯৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। যার বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্র ৬ শতাংশ শিশুশ্রমিক কাজ করছে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে। মোট ৪৭ ধরনের কাজ করে শিশুশ্রমিক। যে কাজের অনেকগুলোই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। দারিদ্র্য, পারিবারিক বিচ্ছেদ, স্থায়ী বিচ্ছেদ, পিতামাতার পেশা, অভিভাবকের মৃত্যু, অনাকর্ষণীয় শিক্ষা, বিভিন্ন কাজে শিশুদের কম মজুরিসহ ২৫টিরও বেশি কারণে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

দেশে দারিদ্র্যতার হার কমেছে। তবে দারিদ্র্যের এই হার কমানোর ক্ষেত্রে শিশুশ্রমের রোজগারও বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে মহানগরী ও বড় নগরীগুলোতে যে বস্তি গড়ে উঠছে সেখানকার শিশুদের বড় একটি অংশ নিয়োজিত হয় নানা শ্রমে। নগরীর পথশিশুরা দোকান ও কোন প্রতিষ্ঠানের ফুট ফরমায়েশ খাটাসহ নানা ধরনের কাজ করে। আবার গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারের শিশুকেও পরিবারের আয় বাড়াতে রোজগারের পথে নামতে হয়।

গ্রামে কৃষির বহুমূখী কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুদের কাজ করতে হয়। এতে মজুরির খরচ অনেকটা বেঁচে যায়। কৃষির শিশু শ্রমিকের একটি অংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কোনরকমে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অতিক্রমের পর মাধ্যমিক স্তরে প্রবেশ করতে পারে না। এই শিশুদের বেছে নিতে হয় কোন না কোন কাজ। আবার মেয়ে শিশুরা প্রাথমিক পাঠ শেষ করে মাধ্যমিক স্তরে প্রবেশের পর মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। যদিও বাল্যবিবাহের হার কমে আসছে তারপরও এখনও শুন্যের কোটায় যায়নি। এই মেয়ে শিশুদেরও ঘর গৃহস্থালির কাজ করতে হয়। এদের অনেক সময় কৃষির কঠিন কাজ করতে হয়। ঘর গৃহস্থালি ও কৃষির যে কাজগুলো অদৃশ্যই রয়ে যায়। এক জরিপে বলা হয়েছে গ্রামীণ শিশুদের ৭৯ শতাংশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। তারা কখনও মাতাপিতার সহায়তা করে। কখনও খ-কালীন স্বজন ও প্রতিবেশীদের জমিতে কাজ করে। আরেক জরিপে বলা হয়, দেশে মোট শিশু শ্রমিকের ৬৬ শতাংশ কৃষিতে, ১৮ শতাংশ শিল্পখাতে, ৪ শতাংশ পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১২ শতাংশ গৃহভৃত্য অন্যান্য খাতে।

দেশে মোট শিশুর সংখ্যা অন্তত সাড়ে ৫ কোটি। যার ৯০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় ঠিকই। মাধ্যমিকের আগেই ঝরে পড়ে প্রায় অর্ধেক। এই শিশুশ্রমিকদের একটি অংশকে কাজে লাগায় অপরাধী চক্র। পুলিশের এক সূত্র জানায়, অবৈধ মাদক কারবারিরা অনেক সময় মাদক পারাপারে শিশুদের ব্যবহার করে। এরা ধরা পরার পর প্রকৃত অপরাধীর নাম বলতে পারে না। শেষ পর্যন্ত এরা পরিণত হয় কিশোর অপরাধী হিসেবে। এদিকে পরিবেশ ও জীবন বিপন্নের অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে শিশু। বিশেষ করে বিড়ি ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। এই শিশুদের বেশিরভাগই অল্প বয়সে কঠিন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এদের আয়ুষ্কাল কমে যায়। ব্যাধির কারণে শারীরিক গঠনেও বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। এদের কেউ বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে।

দেশের শ্রম আইনে বলা আছে, কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন শিশুকে নিয়োগ করে কাজ করতে দেয়া যাবে না। কাজে নিয়োগের পর শিশু না কিশোর এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ, স্কুল সার্টিফিকেট বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে নিস্পত্তি হবে। কোন অভিভাবক তার কিশোর ছেলেকে কাজের জন্য অনুরোধ করলে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কিশোরকে পরীক্ষা করে তার সক্ষমতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেবেন। সরকার সময়ে সময়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা ঘোষণা করবে। এই কাজে কোনভাবেই শিশু নিয়োগ করা যাবে না। কোন কিশোরকে কোন কারখানায় দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। কোন কিশোরকে কোন প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যবর্তী সময়ে কাজ করতে দেয়া যাবে না।

তবে এর মধ্যেও কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের স্বার্থে শিশু শ্রমিক নিয়োগে ব্যত্যয় রাখা হয়েছে। শ্রম আইনের ৪৪ ধারায় বলা হয়েছে, বারো বছরের কোন শিশুকে এমন কিছু হালকা কাজে নিয়োগ করা যাবে যাতে শিশু স্বাস্থ্য ও উন্নতির জন্য বিপজ্জনক নয় এবং শিক্ষা গ্রহণে বিঘিœত হবে না। খোঁজ খবর করে জানা যায় মাঠ পর্যায়ে এই ধারাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে শিশু শ্রমিককে কাজে নেয়া হচ্ছে।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution