sa.gif

অর্থ উপার্জন করলে নারীকে কেউ অবহেলা করতে পারে না
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 15:41 :: Thursday March 8, 2018 Views : 37 Times

নারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আত্মনির্ভরশীল হতে হলে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে, লেখাপড়া ও জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই। আপনাদের মনে রাখতে হবে কর্ম করে রোজগার করতে পারলে সমাজে নারীদের দাম বাড়ে।

তিনি বলেন, নারীদের বসে থাকলে চলবে না। যে নিজে অর্থ উপার্জন করতে পারে, কেউ তাকে অবহেলা করতে পারে না। মেয়েরা এখন আর পিছিয়ে নেই, যে বাধা ছিল, তা ডিঙিয়ে সবক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে যাবে।


বৃহস্পতিবার ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশায় সফল পাঁচ নারীকে ‘জয়ীতা’ সম্মাননা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি।

জাতির জনককে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে পিছিয়ে দেয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো কি না সন্দেহ আছে। তাদের কারণে দেশ পিছিয়ে যায়, নারীরাও পিছিয়ে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত করা হয়। তাদের সময় কোনো পরিবার মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দিতে পারতো না। অনেকে তাদের উপর নির্যাতন করতো। ১৯৯৬ সালে আমরা সরকারে আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি। সরকারের পদক্ষেপের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পরিচয় দিতে এখন গর্ববোধ করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, সচিব পর্যায়ে কোনো নারী ছিল না, এমনকি একজন জজও নারী ছিল না। পাকিস্তানিরা বলেছিল নারীদের জজ বানানো যাবে না। ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেকটি জায়গায় নারীকে এগিয়ে নিতে আমরা নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড- প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা এগিয়ে চলছে। আমাদের মেয়েরা এভারেস্টে পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। নারীরা যে সুযোগ পেলে পারে, তা আজ প্রমাণিত। সেজন্য স্থানীয় সরকারে পর্যন্ত মেয়েদের কোটা করে দিয়েছি, যেন নারী নেতৃত্বটা গ্রাম থেকে উঠে আসে।

তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ে নারী নেতৃত্বটা সৃষ্টি করার সময়ও অনেক বাধা এসেছে। গ্রামের নারীরা ভোট করবে এটা মেনে নেয়া যায় না, এমন মন্তব্যও অনেকে করেছে। শ্বশুর-ভাসুর অনেক মেয়েকে বাধা দিয়েছে। পরে নারীরা যখন ভোটে দাঁড়ায় সেই শ্বশুর-ভাসুরই আবার তার ভোটের জন্য গ্রামের মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। সংবিধানে নারীর অধিকার ও মর্যাদার কথাও তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশ গড়ার পর জাতির পিতা মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো লাঞ্ছিত নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে দেন। তিনি এই নিপীড়িতদের বীরাঙ্গনা খেতাব পর্যন্ত দেন। অনেক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আমার বাবা। বিয়ে দেয়ার সময় বাবার পরিচয় দেয়া হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান। ঠিকানা ৩২ নম্বর ধানমন্ডি।

এ সময় শেখ হাসিনা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ১৯৪৮ সাল থেকে সংগ্রাম শুরু করেন আমার বাবা। মা আড়ালে থেকে সবরকমের সহযোগিতা করে গেছেন বাবাকে। ১৯৬৮ সালে জাতির জনকের বিরুদ্ধ যখন মামলা দেয়া হয়, তখনও মা শক্ত থেকে সংসার সামলেছেন, বাবাকে শক্তি জুগিয়েছেন।

নিজের মায়ের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাবা যখন মন্ত্রী ছিলেন মা তখন যেমন ছিলেন, বাবা জেলে থাকাবস্থায়ও তিনি একইরকম ছিলেন। তার কোনো চাহিদা ছিল না। পাকিস্তানে অ্যাসেম্বলিতে অংশ নিতে জাতির পিতা সেখানে যেতেন, কিন্তু মা কখনো সেখানে যাওয়ার আবদার করেননি। বঙ্গবন্ধু বললেও মা বলতেন আমি ওখানে যাব না। কারণ, তিনি জানতেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবে, জাতির পিতা যে এ দেশের স্বাধীনতার জন্যই সংগ্রাম করছেন। এমনকি বাবা যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তখনও একইরকম সরল জীবন যাপন করেছেন মা। তিনি থাকতেন ওই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতেই।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution