sa.gif

কাজ হারানোর ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাতকর্মীরা
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 16:54 :: Sunday March 11, 2018 Views : 24 Times

 প্রায় ৪০ বছর ধরে ইস্পাতকর্মী হিসেবে কাজ করছেন মিক ল্যাং। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। আশা ছিল, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প দেশের দুর্দশাগ্রস্ত ইস্পাত শিল্পকে বাঁচিয়ে তুলতে কিছু একটা করবেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, কিন্তু এখন নিজের চাকরির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ল্যাং। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করার পর থেকেই ল্যাংয়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত শিল্পে কর্মরত হাজারো শ্রমিক কর্মনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

৫৯ বছর বয়সী ল্যাং বলেন, ‘আমি এজন্য তাকে ভোট দিইনি। আমি তাকে ভোট দিয়েছিলাম, কারণ ভেবেছিলাম তিনি অনেক দৃঢ়তার পরিচয় দেবেন; তার মানে এই নয় যে, তিনি এমন কিছু করবেন।’ তৃতীয় প্রজন্মের ইস্পাত নির্মাতা ল্যাং ও তার ছেলে পেনসিলভানিয়ার মার্সার কাউন্টির ফেরেলের একটি কারখানায় কাজ করেন।

২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের এ অঙ্গরাজ্য থেকেই রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প ২৪ পয়েন্ট বেশি ভোট পেয়েছিলেন। রিপাবলিকান দলের কিছু কৌঁসুলি বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ শুল্কারোপ পেনসিলভানিয়ার ইস্পাত কারখানার শ্রমিকদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী মঙ্গলবার এখানে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন দিতে মুন টাউনশিপ সফর করার কথা ট্রাম্পের। ২০১৬ সালে এ অঞ্চল থেকে বিপুল ভোট পাওয়া ট্রাম্প এখানে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার আশা করছেন। ইউএস স্টিল করপোরেশন ও একে হোল্ডিং করপোরেশনের মতো ইস্পাত নির্মাতা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সাদর অভ্যর্থনা পাবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ ইস্পাতে শুল্কারোপকে তারা বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে।

কিন্তু নভোলিপেটস্ক স্টিল পিএওয়ের (রুশ কোম্পানি এনএলএমকের মার্কিন সাবসিডিয়ারি) প্রায় ৭৮০ কর্মীর সঙ্গে ল্যাং প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপে খুশি নন। এ প্রতিষ্ঠানটি মূল কোম্পানি থেকে বছরে ২০ লাখ টন ইস্পাতের তৈরি পাত আমদানি করে। পরবর্তীতে এ পাতগুলো কারখানার মাধ্যমে আরো পাতলা শিটে রূপান্তর করে ক্যাটারপিলার ইনকরপোরেশন, ডিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি, হার্লে ডেভিডসন ইনকরপোরেশন ও হোম ডিপোর মতো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। শুল্করোপের ফলে এ পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাবে এবং ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করা রীতিমতো অসম্ভব হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এনএলএমকের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব মিলার বলেন, শুল্কের কারণে ক্রেতারা যদি ২৫ শতাংশে বেশি মূল্যে পণ্য ক্রয়ে পিছপা হন, তাহলে প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মীকে কাজ হারাতে হবে। শুধু তাই নয়, পেনসিলভানিয়া ও ইন্ডিয়ানার কারখানায় ৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনাও বাধ্য হয়ে বাদ দিতে হবে।

নিজ দল ও অন্য দেশগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্কারোপ করেছেন। এ অবস্থায় অন্য দেশগুলোও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মিলারের মতো আরো অনেক ইস্পাত কারখানার প্রধান বলছেন, এটি চরম মাত্রার তামাশা: আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে স্থানীয়দের জন্য শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত খাতের চাকরি সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু এ কারণে অনেকে কাজও হারাবেন। মিলার বলেন, ‘সরকারের এ নীতিতে কেউ লোকসানে থাকবে আবার কেউ লাভবান হবে। আমরা লোকসানের দলে রয়েছি।’

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত শিল্পে মোট কর্মী ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার। সূত্র: রয়টার্স



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution