sa.gif

শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে মনযোগ দিতে হবে : সিপিডি
:: 14:52 :: Wednesday May 16, 2018 Views : 39 Times

কারখানার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এখন শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে মনযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সনদের অধিকাংশ স্বাক্ষর করলেও এখনও তা বাস্তবায়ন করেনি। যা উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পরবর্তীতে রফতানির জন্য অত্যাবশকীয়।

মঙ্গলবার ১৫ মে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। উপস্থিত ছিলেন আইএলওর বাংলাদেশ অফিসের নির্বাহী পরিচালক গগন রাজবান্ড্রি।


সংস্থাটি বলছে, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পেতে শ্রম অধিকার রক্ষায় এইএলওর ১৫টি সনদ কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশ এই সনদগুলো কার্যকরে তেমন অগ্রগতি নেই।

অনুষ্ঠানে আইএলও প্রতিনিধি, গবেষক, শ্রমিক নেতা, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারারা বক্তব্য রাখেন।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, শ্রমমান উন্নয়নে যে সাফল্য তা বিদেশিদেরকেও জানাতে হবে। শ্রমমান উন্নয়নে শুধু আমাদের দায়িত্ব আছে তা নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও আছে। এসডিজি বাস্তবায়নের সাথে সাথে শ্রমমান উন্নয়নের কাজগুলোও করতে হবে। জিএসপি প্লাস নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের দিকে নজর দেয়া উচিৎ।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক খাতে এ বছর রফতানি আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর পেছনে মূল অবদান শ্রমিকদের। তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি। সেইফটি ইস্যুতে আমরা পিছিয়ে আছি এটা ঠিক না। রানা প্লাজার পর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, চৌর্যবৃত্তি (চোর) সংক্রান্ত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে আমরা সব ফ্যাক্টরির দরজা খোলা রাখি। যে কেউ ইচ্ছে করলে পর্যবেক্ষণে আসতে পারে। তাহলে কেন বলবো সেইফটি ইস্যুতে আমরা পিছিয়ে আছি। নেতিবাচক প্রচারণাটা ঘর থেকেই শুরু হয়। আমরা যা করিনি তা বলতে বলছি না, কিন্তু যা করেছি তা স্বীকার করুন।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা এমন একটা অর্থনীতিতে যেন না যাই যেখানে শিল্পখাতে ভালো শ্রম আইন পালিত হচ্ছে অথচ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে পালিত হচ্ছে না। তবে বৈশ্বিক এজেন্ডাই যে পালন করতে হবে এমন নয়, এসডিজি অর্জনে আমাদের লক্ষ্য আমরাই নির্ধারণ করে নিতে পারি। এক্ষেত্রে শ্রম আইন ও শ্রমমান নিয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা এমডিজির ধারাবাহিকতায় এসডিজি বাস্তবায়ন করছি। কিন্তু আমাদের গতি আরও বাড়াতে হবে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়লেও প্রকৃত আয় কমেছে। এর মানে হল মানসম্মত কাজের সুযোগ কমে গেছে। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে এ বিষয়টিতে নজর দেয়া জরুরি।

আইএলওর বাংলাদেশ অফিসের নির্বাহী পরিচালক গগন রাজবান্ড্রি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নে ও অধিকার রক্ষায় অনেক ভালো করেছে। তবে এটি একটা চলমান প্রক্রিয়া। তাই শ্রম অধিকার রক্ষায় আমাদের আরও কাজ করতে হবে।

জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আগে আমরা শ্রম অধিকার নিয়ে খুব একটা কাজ করিনি। রাতারাতি আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছা যাবে না। তবে আমরা অল্প সময়ে যা করেছি তা অনেক দেশের চেয়ে অনেক ভালো।

তিনি বলেন, কারখানা পরিদর্শন সম্পর্কে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়ে থাকি। এ ক্ষেত্রে ঘুষবাণিজ্য হয় মালিক ও কর্মকর্তাদের কারসাজিতে। দুজনের দুর্বলতা থাকাতেই একে অপরের কাছ থেকে সুবিধা নেয়। এক্ষেত্রে মালিক পক্ষকে আগে সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution