sa.gif

সৌদি শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে এবার ‘ড্রপ বক্স’ সিন্ডিকেট
আওয়াজ ডেস্ক :: 17:56 :: Thursday September 6, 2018 Views : 34 Times

মালয়েশিয়ার পর এবার কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেট করে একচেটিয়াভাবে সৌদি আরবের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ‘ড্রপ বক্স’ নামে এই সিন্ডিকেট করার উদ্যোগ নিয়ে মাঠে রয়েছে ২০ থেকে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এ লক্ষ্যে ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে এজেন্সিগুলো নিয়মিত বৈঠক করছে বলে জানা গেছে। শ্রমবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট করে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি অনৈতিকভাবে একচেটিয়া ব্যবসা করেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার জিটুজি-প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নেওয়া স্থগিত করেছে। এবার সৌদি আরব ঘিরে একই প্রচেষ্টা চলছে। এটা হলে অদূর ভবিষ্যতে সৌদি শ্রমবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। দেশটিতে প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি দেশটিতে গেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে এতোদিন সব রিক্রুটিং এজেন্সির সমান সুযোগ ছিল; কিন্তু এই বাজারকে কুক্ষিগত করতে অপচেষ্টা চলছে। এসব এজেন্সি তাদের মাধ্যমে সৌদি আরবের ভিসা সংগ্রহের জন্য পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্রাদি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সিন্ডিকেটভুক্ত এজেন্সি কর্মীদের সৌদি ভিসা সংগ্রহের এই পদ্ধতিকে ‘ড্রপ বক্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। ইতোমধ্যে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিভিন্ন এজেন্সি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

সরকার অনুমোদিত প্রায় ১২শ রিক্রুটিং এজেন্সির সবগুলো সৌদি আরবে কর্মী প্রেরণ করে আসছে। এক্ষেত্রে সৌদি দূতাবাসের সত্যায়িত চাহিদাপত্রের বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কর্মী প্রেরণের নিয়োগানুমতি সংগ্রহ করে। কর্মীর ভিসা সংগ্রহের জন্য ঢাকার সৌদি দূতাবাসে প্রত্যেক রিক্রুটিং এজেন্সি প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসহ পাসপোর্ট স্ব-স্ব উদ্যোগে জমা দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই ‘ড্রপ বক্স’ পদ্ধতি কার্যকর হলে দেশটিতে কর্মী প্রেরণে এই সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হবে সহস্রাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি।

শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড্রপ বক্সের নামে নতুন এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মী প্রেরণে খরচ বাড়বে। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে কতিপয় রিক্রুটিং এজেন্সি ভিসা সংগ্রহের জন্য অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির পাসপোর্ট সৌদি দূতাবাসে জমা দিলে ধীরে ধীরে কর্মী প্রেরণের ব্যবসা এই সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাবে। যে সকল এজেন্সি ড্রপ বক্সের তালিকাভুক্ত থাকবে সৌদি নিয়োগকর্তারা শুধু তাদেরকেই চিনবে। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, এই পদ্ধতির আওতায় নির্ধারিত এজেন্সি তাদের ভিসা সংগ্রহের জন্য পাসপোর্টসহ আবেদনপত্র সৌদি দূতাবাসে জমা দিলে ব্যবসায়িক গোপনীয়তা থাকবে না। একইসঙ্গে অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির নিয়োগকর্তার তথ্যাদিও জানবে তারা। এতে করে ড্রপ বক্সের আওতাধীন এই সিন্ডিকেট একচেটিয়া ব্যবসা করবে। বাকি এজেন্সিগুলো বঞ্চিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ড্রপ বক্স’ সিন্ডিকেট চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। সিন্ডিকেট করতে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মোটা অংকের টাকা খরচ করছে।

তবে সিন্ডিকেটভুক্ত এক রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বলেন, এটি সৌদি দূতাবাসের সিদ্ধান্ত। তারা তাদের সুবিধার্থে নতুন এই পদ্ধতি চালু করতে চাইছে। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত কিছু হয়নি। চূড়ান্ত হতে অনেক সময় লাগবে। তবে সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বায়রার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, ড্রপ বক্স পদ্ধতি চালু হলে অন্য এজেন্সিগুলো তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে নানা জটিলতা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে লাইসেন্সধারী ভিসা প্রসেসিং কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভীতি বা সংশয় অনেকটা কমবে।

অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বলেন, কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছুই জানায়নি। তবে আমরা কোনো সিন্ডিকেট করার চেষ্টাকে সমর্থন করব না।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution