sa.gif

নিম্নতম মজুরি পান না ৫৪% পোশাক শ্রমিক
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 16:00 :: Thursday November 1, 2018 Views : 130 Times

পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ৫৪ শতাংশ নিম্নতম মজুরি পান না। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিঅ্যান্ডএ ফাউন্ডেশন, ফ্যাশন রেভল্যুশন ও মাইক্রোফিন্যান্স অপরচুনিটিজের সমীক্ষাভিত্তিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও কম্বোডিয়ার মোট ৫৪০ জন শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান তিনটির গবেষণা কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১৮০ জন শ্রমিকের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাঠকর্মীদের সহায়তায় এক বছর ধরে পোশাক শ্রমিকদের ওপর এ সমীক্ষা চালানো হয়। সম্প্রতি এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)।

গবেষণায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের জীবনযাপন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হয়েছে। শ্রমিকের কাছ থেকে দৈনন্দিন কর্মঘণ্টা, মাস শেষে মজুরি, সাপ্তাহিক আয়-ব্যয়ের হিসাব— এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যান্য সুনির্দিষ্ট তথ্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্যনিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো।

গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার পোশাক শ্রমিকরা সপ্তাহে গড়ে ৬০ ঘণ্টা করে কাজ করেন। ৫৩ শতাংশ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ৬০ ঘণ্টার আইনি সীমার বাইরে কাজ করেন। কম্বোডিয়া ও ভারতে শ্রমিকরা গড়ে যথাক্রমে ৪৭ ও ৪৬ ঘণ্টা কাজ করেন। বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের চেয়ে বেশি সময় কাজ করলেও ন্যায্য মজুরি পান না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপনায় সানেম দেখিয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের ৫৪ শতাংশ নিম্নতম মজুরির চেয়ে কম মজুরি পান। ৪৬ শতাংশ শ্রমিক নিম্নতম বা তার চেয়ে বেশি মজুরি পান।

সানেমের চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার বণিক বার্তাকে বলেন, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ফলাফল পাওয়া গেছে। ওই সময় গবেষণার স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে ব্র্যাক। ওই তথ্যে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ শ্রমিক নিম্নতম মজুরি পান না। যেসব শ্রমিকের তথ্য নেয়া হয়েছে, সেগুলো কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করব আমরা। এরপর হয়তো ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে। আমরা শিগগিরই প্রাথমিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আরো বিস্তারিত কাজ শুরু করব।

গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রমিকদের আয়ের বেশির ভাগ অংশ খরচ হয় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার খরচ মেটাতে। পরিবার পরিচালনার মূল ভূমিকায় থাকেন শ্রমিকরা। মৌলিক চাহিদা পূরণে তারা ঋণ নিতে বাধ্য হন, যা আবার পরিশোধ হয় বড় অংকের কিস্তির মাধ্যমে। গবেষণার কাজে শ্রমিকদের আর্থিক ডায়েরি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। পাঁচ স্তরের নমুনা কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে গবেষণায়।

সানেম জানিয়েছে, গবেষণায় দ্বিতীয় ধাপের সমীক্ষায় শ্রমিকদের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। বর্তমানে ১৮০ জন শ্রমিকের ওপর গবেষণা করা হলেও পর্যায়ক্রমে এর আওতায় আসবেন ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক। এসব শ্রমিকের ২৭ শতাংশ হবে গাজীপুর এলাকার, ২৭ শতাংশ ঢাকার, ১৬ শতাংশ নারায়ণগঞ্জের, ১৬ শতাংশ সাভারের ও ১৪ শতাংশ চট্টগ্রামের।

উল্লেখ্য, দেশের পোশাক শ্রমিকদের জন্য বর্তমান মজুরি কাঠামোটি ঘোষণা হয় ২০১৩ সালে। ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন গ্রেডের পোশাক শ্রমিকের মাসে ৫ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়ার কথা। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চলতি বছর আবারো মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেয়া হয় নতুন কাঠামোর। তবে তা বাস্তবায়ন হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে। এ কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের শ্রমিক নিম্নতম মোট মজুরি পাবেন ৮ হাজার টাকা।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution