sa.gif

ওজনে কারচুপির শিকার ৯৩% চা শ্রমিক
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 18:24 :: Wednesday December 19, 2018 Views : 28 Times

চা পাতা পরিমাপে গামছার ওজনের অজুহাতে প্রায় ৯২ দশমিক ৬ শতাংশ শ্রমিকের ওজন কমানো হয়, যার পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৯ কেজি। অন্যদিকে কোনো কারণ ছাড়াই প্রায় ১৮ শতাংশ শ্রমিকের ওজন কম দেখানো হয়। যার পরিমাণ প্রায় দুই কেজি। আর ওজনের এ ধরনের কারচুপি করতে প্রায় ৮৭ শতাংশ বাগান এখনো অ্যানালগ যন্ত্র ব্যবহার করছে। শুধু ওজনই নয়, রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনি অধিকারসহ সব ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার তারা।

গতকাল ‘চা বাগানের কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের অধিকার: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর মাইডাস ভবনে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার (গবেষণা ও পলিসি) দিপু রায় গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান. নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (গবেষণা ও পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে চা শ্রমিকরা অনেক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হলেও একেবারেই বঞ্চিত বলা যাবে না। তবে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এর রেশ কাটেনি। চা শ্রমিকদের সরাসরি দাস বলা যাচ্ছে না। কিন্তু তাদের যে মৌলিক অধিকার, তা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার, শিল্প মালিক, চা সংসদ, ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দায় রয়েছে।

গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থাপনায় দিপু রায় বলেন, ৬৪টি বাগানের মধ্যে ৫৬টিতে অ্যানালগ কাটার মেশিনে পাতার ওজন করা হয়। মেশিনের ওজন পরিমাপের নির্দেশক একমুখী হওয়ায় তা শ্রমিকদের পক্ষে দেখা সম্ভব হয় না। তবে আটটি বাগানে পাতার ওজনকরণে ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার ও ওজনের পরিমাণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।

ওজনে কারচুপি: জরিপকালীন সময় থেকে আগের এক সপ্তাহের পাতা উত্তোলনের হিসাব ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শ্রমিক বলতে পেরেছেন। এসব শ্রমিকের মধ্যে ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ শ্রমিক বিভিন্ন অজুহাতে পাতার ওজন কম দেখানোর কথা বলেন।

সবচেয়ে কম মজুরি: চা বাগানের শ্রমিকদের সর্বশেষ চুক্তিতে দৈনিক মজুরি মাত্র ১০২ টাকা ধরা হয়েছে, যা দেশের অন্য খাতের শ্রমিকদের তুলনায় কম। চা শ্রমিকদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ হিসাব করলে দেখা যায়, মাসিক মজুরি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৩১ টাকা, যা বাংলাদেশ নিম্নতম মজুরি বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে কম।

এ অবস্থায় সরকার, বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক, ন্যায্য ও অন্যান্য খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার পাশাপাশি দুই বছর পর পর তা হালনাগাদ করাসহ আট দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। গবেষণাটিতে শ্রম আইনে চা শ্রমিকদের জন্য বৈষম্যমূলক আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে তা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

 



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution