sa.gif

রানা প্লাজায় আহত অর্ধেক শ্রমিক কাজ পাননি
আওয়াজ প্রতিবেদন :: 14:03 :: Friday April 19, 2019 Views : 314 Times

সাম্প্রতিক মজুরি বেড়েছে। জীবন যাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু রানা প্লাজার ধমে আহত শ্রমিকের ভাগ্যে বেতনের ঝুলি বড় হয়নি। বরং অর্ধেক শ্রমিক কাজ পায়নি, কাজে ফিরতে পারেনি। যারা কাজে ফিরতে পারেনি যাঁরা কাজে ফিরতে পারেননি তাঁদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ শারীরিক দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে ২০.৫ শতাংশের অবস্থার অবনতি ঘটেছে


২০১০ সালের পর এ পর্যন্ত গার্মেন্ট খাতে তিন দফায় মজুরি বেড়েছে ২৮৭ শতাংশ। তা সত্ত্বেও এ খাতের শ্রমিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের মতো মজুরি নিশ্চিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তিন দফা মজুরি বাড়লেও শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান বাড়েনি।

গত মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পর গার্মেন্ট খাতের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে তাঁরা এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইডের আয়োজনে ওই সংলাপে শ্রমিক প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ ও গার্মেন্ট খাত বিশেষজ্ঞরা, উন্নয়ন সহযোগী, বিদেশি রাষ্ট্রদূত তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। বাংলাদেশে অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর এতে সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মজুরি বাড়লেও শ্রমিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়নি। এখনো ৮৪ শতাংশ শ্রমিককে রান্নাঘর ও বাথরুম ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। ১৭ শতাংশ শ্রমিককে এখনো ফ্লোরে ঘুমাতে হয়।

এ সময় বিআইডিএসের সিনিয়র গবেষণা ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সম্প্রতি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা থেকে মজুরি বেড়ে আট হাজার টাকা হওয়ার পর মূল্যস্ফীতি হিসেবে নিলে দেখা যায়, প্রকৃত অর্থে মজুরি বেড়েছে মাত্র এক শ টাকা।

রানা প্লাজার পর গার্মেন্ট খাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, ছয় বছর পর এসে তাতে গতি মন্থরতা দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, বরং কিছু ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, পুরো কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কাজটি পেছনের দিকে হাঁটছে। কোথাও এমন ইঙ্গিত যে, আমরা আগেই ভালো ছিলাম।

রপ্তানিকারকদের আয়ের হার বাড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের আগে পোশাক সরবরাহকারীর আয়ের হার আর বর্তমানের আয়ের হার একই রয়ে গেছে। সরবরাহ চেইনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংস্কারকাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স চলে যাওয়ার পর তা পর্যবেক্ষণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতায় এখনো ঘাটতি রয়েছে বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় ঢাকায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রতিনিধি বলেন, অ্যাকর্ডের কার্যক্রম দ্রুত হস্তান্তর করলে বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড ও ক্রেতার মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। একই সঙ্গে পোশাকের ন্যায্য দর নিশ্চিত করতে ব্র্যান্ডগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা থাকতে হবে। তা সত্ত্বেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাঠামোগত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

রানা প্লাজায় আহত ৫১% শ্রমিক কাজে নেই : রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পর দেখা গেছে, আহত শ্রমিকদের মধ্যে ৫১ শতাংশ কোনো কাজ করছে না। বাকি ৪৯ শতাংশ গার্মেন্টসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। অ্যাকশন এইডের সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। আহত হওয়া ২০০ শ্রমিকের ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে অ্যাকশন এইডের প্রতিনিধি নুজহাত জেবিন বলেন, যাঁরা কাজে ফিরতে পারেননি তাঁদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ শারীরিক দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে ২০.৫ শতাংশের অবস্থার অবনতি ঘটেছে, ৫১ শতাংশের অবস্থা স্থিতিশীল ও প্রায় ২৯ শতাংশের অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution