sa.gif

চা পরিবহন ও পোশাক শিল্পে বেশি শ্রম শোষণ
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 08:53 :: Sunday May 5, 2019 Views : 185 Times

প্রতিবছর মে দিবস এলেই শ্রমিকদের অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন, কাজের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে জোর আলোচনা চলে সর্বত্র। প্রাতিষ্ঠানিক অপ্রাতিষ্ঠানিক সব খাতেই শ্রকিদের শ্রমদাসত্ব থেকে মুক্তি ঘটছে না। দেশের বিপুল শ্রমশক্তি নিয়োজিত রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে।


অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে তুলনামূলকভাবে কাজের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জীবনমান উন্নত হওয়ার কথা থাকলেও এ খাতের শ্রমিকদের বঞ্চনা কমেনি এখনো। উপরন্তু তাদের অধিকারের প্রশ্নটি বরাবরই উপেক্ষিত রয়ে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিকসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৮৪ হাজার লোক বিভিন্ন শ্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিকসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ বিভিন্ন শ্রমের সঙ্গে জড়িত। তার মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে ৬৭ লাখ ৮৭ হাজার, যারা মূলত সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় নিয়মিত শ্রম দিয়ে থাকেন। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে- পাট, টেক্সটাইল, চিনি, কাগজ, গার্মেন্টস, হালকা যান, পরিবহন, ট্যানারি, চা ও নৌযান শ্রমিক। অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকের সংখ্যা প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে অনেক বেশি। বলা হচ্ছে শ্রমের ৮৭.৫ ভাগই নিয়োজিত রয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। সে হিসাবে এ খাতে ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত। তারা মূলত গৃহশ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, হকার প্রভৃতি কাজ করেন। তবে এ বিশাল শ্রমশক্তির কোনো স্বীকৃতি নেই। কিন্তু যে শ্রমের স্বীকৃতি আছে, এবং যে খাতগুলো থেকে সরকার বছর বছর বিপুল রপ্তানি আয় অর্জন করছে অথবা দেশের অভ্যন্তরে যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতটি সবচেয়ে বড় সেবা দিয়ে যাচ্ছে তার শ্রমিকদের অধিকার কতটা রক্ষিত হচ্ছে- সে প্রশ্নটিই এখন বড় করে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের পরিবহন, গার্মেন্ট ও চা খাতের শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা-নিশ্চয়তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে শ্রমিকদের মধ্যে। প্রায়ই নিজেদের প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে ফুঁসে উঠছেন এ তিন খাতের শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ আন্তর্জাতিক শ্রম আইনকে লঙ্ঘন করে স্বল্প মজুরিতে শ্রমশক্তি কিনে নিচ্ছেন শিল্প মালিকরা। কোথাও কোথাও সিন্ডিকেট ব্যবসার নামে পুরো খাতকে জিম্মি করে রাখার প্রবণতার কথাও বলেছেন শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত না করে, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে কোনোভাবেই পরিবহন, গার্মেন্ট ও চা খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উপরন্তু নৈরাজ্য ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। সুযোগ নেবে দুর্বৃত্তরা।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন খাত :
দেশের প্রাতিষ্ঠানিক খাতে সবচেয়ে বড় শ্রম খাত পরিবহন। কিন্তু এ খাতেই সবচেয়ে বেশি নৈরাজ্য, অস্থিরতা, নিরাপত্তা, কাজের নিশ্চয়তার অভাব। এ খাতের শ্রমিকরা সবচেয়ে বঞ্চিত ও নিপীড়ত বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন কর্মঘণ্টাসহ শ্রমিকদের অধিকারগুলো এখানে মানা হয় না। ফলে যানবাহনের চালকেরা অবসাদগ্রস্ত থাকেন। এ কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ঝরছে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন।
সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে পরিবহন খাতকে কেন্দ্র করে দেশে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। পরিবহন মালিক, সরকার-ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং কতিপয় শ্রমিক নেতার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এ সিন্ডিকেট। তাদের হাতেই পরিবহন ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে। শ্রমিকরা এখন ন্যায্য অধিকার পান না।
বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান খোলা কাগজকে বলেন, সিন্ডিকেট ব্যবসার কারণে পরিবহনে ঢুকে পড়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এ খাতে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে চলেছে। কারণ প্রকৃত শ্রমিকদের এখানে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ১০ লাখেরও বেশি শ্রমিকের বৈধ লাইসেন্স নেই। আমরা বারবার বলেছি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কাজের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু আইএলও কনভেনশনের কোনো নীতিকেই তোয়াক্কা করেন না পরিবহন মালিকরা। তাদের প্রশ্রয় দেন সরকারের লোকজন। শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এগুলো তাদের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার একটি অন্যতম বড় কারণও বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন খাতের শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও চাকরির নিশ্চয়তা না থাকা এই পেশাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এছাড়া শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের প্রভাবে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। তাদের হাতে মারা যাচ্ছেন সাধারণ যাত্রী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশিরভাগ চালক প্রতিদিন গড়ে ১৩ ঘণ্টা বা তারও বেশি গাড়ি চালান। পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না থাকার প্রভাব পড়ছে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। যানবাহন চালানোর সময় মস্তিষ্ক, চোখ, কান, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। ফলে একটানা ৮-১০ ঘণ্টা যান চালালে চালকরা স্বাভাবিকভাবেই অসংলগ্ন হয়ে পড়েন। তখন যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা শ্রম দেবেন। ক্ষেত্রবিশেষে শ্রমিকের ইচ্ছায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে পরিবহন শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই কর্মঘণ্টার হিসাব মানা হচ্ছে না। এমনকি দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করা শ্রমিকদেরও মজুরি নির্ধারিত নেই। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতেই অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করেন। কোথাও কোনো ধরনের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না পরিবহন শ্রমিকদের। ফলে মালিকরা চাইলেই যেকোনো সময় শ্রমিকদের কাজ থেকে ছাঁটাই করতে পারেন। অসুস্থ হলেও এ শ্রমিকদের কোনো ছুটি মেলে না।


এখনো মজুরি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে লড়তে হয় পোশাক শ্রমিকদের :
রানা প্লাজা, তাজরীন দুর্ঘটনার মতো পোশাক খাতে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির পর পোশাক শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা করেছিলেন দেশের শ্রমিকরা। নামমাত্র কয়েকটি জায়গায় সামান্য উন্নতি হলেও সার্বিক পরিবেশের কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। ফলে এখনো গার্মেন্টস শ্রমিকদের হতাশা কাটেনি। এখনো তারা আন্দোলন করছেন ন্যূনতম মজুরি, কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার দাবিতে। সম্প্রতি ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। কিন্তু মালিকরা ১০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দিতে সম্মত হয়েছেন। এ অবস্থায় গার্মেন্ট খাতে শ্রমিক-মালিকের মধ্যে এক ধরনের দেনদরবার চলছে।
গার্মেন্ট শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন নানা প্রতিষ্ঠানও গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজারের পক্ষে মত দিয়েছে। একইসঙ্গে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন তারা।
জানা গেছে, এখনো অধিকাংশ গার্মেন্টসে ছোট সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়। দুর্ঘটনার সময় দ্রুত নেমে আসার বিকল্প কোনো সিঁড়ি নেই। নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই বন্ধ রাখা হয় সিঁড়ি। অথচ এ খাতে প্রায় ৫ হাজার গার্মেন্টসে ৪৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছেন।

গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার না দেওয়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রেড ইউনিয়ন না থাকায় শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন না। শ্রমিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পূর্ব শর্তগুলোর ১০০ ভাগের মধ্যে এক ভাগও কার্যকর হয়নি। এমনকি আইএলও বাংলাদেশে কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ঘটেছে বলে যে বক্তব্য দিচ্ছে তা পুরোপুরি সত্য নয়। তাদের বক্তব্যে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
অনেকে বলছেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন গার্মেন্টসের ঘটনার পর অনেক মালিকই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ভেবেছেন। ফলে আগের চেয়ে এখন পরিবেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে এখনো গার্মেন্টস মালিকরা আগের মতোই রয়েছেন।
মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে মহিলাদের কর্মপরিবেশ ও অধিকার যতটুকু থাকার কথা তা নেই। প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি, নিরাপত্তা ঝুঁকিতেই কাজ করতে হয় তাদের। এমনকি কোথাও কোথাও যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এ খাতের নারীকর্মীরা। নারী শ্রমিকদের জন্যে আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। পোশাক-পরিচ্ছদ বদলানো, খাওয়া-দাওয়ার জন্য কোনো আলাদা কক্ষ নেই এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য কোনো আলাদা জায়গা নেই। কোনো চাইল্ড হোম নেই। কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালে মালিকরা দায়িত্ব নিতে চান না।
শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রমিকদের স্কিল্ড উন্নয়নে গার্মেন্টসগুলো কোনো পয়সা ব্যয় করতে চায় না। এ ব্যাপারে মালিকদের আগ্রহ একেবারেই কম। এছাড়া এখনো গার্মেন্টগুলোতে সর্বনিম্ন মজুরি ৫৩০০ টাকা। কোথাও কোথাও এই মজুরিও বাস্তবায়ন হয় না। মাত্র ৩ হাজার টাকায় কেনা হয় শ্রমিক। অথচ কাগজে-কলমে দেখানো হচ্ছে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দেওয়া হচ্ছে। ওভারটাইম দেওয়ার কথা বলে অনেক গার্মেন্টসেই বাড়তি সময়য়ের জন্য কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ওভারটাইম দেওয়া হয় না। অবশ্য স¤প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের গার্মেন্টসগুলোয় কাজের পরিবেশ উন্নত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। গার্মেন্টস সেক্টরে অনিয়মের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়। ফলে বাইরের দেশগুলোয় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

নিপীড়িত চা শ্রমিকরাও :
দেশের প্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও নিপীড়িত শ্রমিক রয়েছেন চা খাতে। চা শ্রমিকদের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কর্মস্থলের নানান সুযোগ-সুবিধা, উন্নত আবাসন, সুচিকিৎসা প্রভৃতির অভাবে এ খাতের শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোনো ধরনের আন্দোলন, আলোচনা, সমালোচনা কোনোকিছুই দাগ কাটে না চা বাগান মালিকের।

২০ দফা দাবি নিয়ে চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (বাচাশ্রই)। কিন্তু মালিকপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বসেও শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর পক্ষে মালিকদের রাজি করাতে পারেননি শ্রমিকরা।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, চা শ্রমিকদের অধিকার এখনো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে যে চুক্তিপত্র করেছি তার অনেক কিছুই বাস্তবে দেখা যায়নি। তবে আমরা শ্রমিক অধিকারের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলোতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

যেমন ধরা যাক, চা শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক গ্রুপ বীমা এবং গ্র্যাচুইটির কথা। শ্রম আইনেও এর বাস্তবায়নের কথা জোর দিয়ে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আজও চা বাগানগুলো আমাদের চা শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক গ্রুপ বীমা ও গ্র্যাচুইটি দিচ্ছে না। তিনি বলেন, অস্থায়ী শ্রমিকদের মজুরি স্থায়ী শ্রমিকদের ৮৫ টাকার সমান দিতে হবে। কিন্তু চা বাগান মালিকরা শ্রমিকদের অস্থায়ীভাবেও দৈনিক মজুরি ৮৫ টাকা দিচ্ছেন না। মাটির ঘর তৈরি করলে মেরামত বাবদ তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো সেটাও ঠিকমতো দিচ্ছে না।
রামভজন কৈরি বলেন, বর্তমানে চা শ্রমিকদের মজুরি, বোনাস, স্যানিটেশন, সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ ২০টি দাবি নিয়ে আমরা আলোচনা করে যাচ্ছি। অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ী শ্রমিকে পদোন্নতি দেওয়ার কথাও আমাদের দাবিতে রয়েছে। বিশেষ করে নারী চা শ্রমিকদের কর্মস্থলে অর্থাৎ, প্রতিটি সেকশনে প্রক্ষালনকক্ষ এবং শৌচাগার সুবিধার বিষয়টি আমাদের অন্যতম একটি দাবি। মজুরি প্রসঙ্গে এ শ্রমিক নেতা বলেন, আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- আমরা চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ২৩০ টাকা করে নির্ধারণ করতে চাচ্ছি। বাগানভিত্তিক কোনো প্রকার শ্রেণিবৈষম্য যেন না থাকে। সব চা বাগানে একই মূল্য নির্ধারণের জোর দাবি আমাদের।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্র জানায়, সারা দেশে কর্মরত মোট চা শ্রমিক ১ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী চা শ্রমিক। ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির চা বাগানগুলোতে যথাক্রমে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি হচ্ছে ৮৫, ৮৩ ও ৮২ টাকা। বাংলাদেশে মোট চা বাগানের সংখ্যা ১৬৩টি।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution