sa.gif

নিম্নতম মজুরী বোর্ডকে মাছ বাজারে পরিনত করেছে গার্মেন্টস মালিক ও সরকার!
-সৌমিত্র কুমার



গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা হচ্ছে কলুর বলদের থেকেও খারাপ। ঘানির মালিক তার তেল উৎপাদনের চাকা সচল রাখার জন্য হলেও বলদের দেখভাল করে, কিন্তু আমাদের মালিকরা এদিক থেকে কলুর বলদের মালিকদের থেকেও নিম্নমানের রুচির পরিচয় দিচ্ছে।

একথা সর্বজনস্বীকৃত, আধুনিক কালে যেকোন দেশের সরকার নিম্নতম মজুরী বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের জন্য দেশের বাজারদর অনুযায়ী নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে মনুষ্যোচিত উপায়ে বেচে থাকার মতো মজুরী নির্ধারণ করার জন্য। অথচ বাংলাদেশের সরকার ও মালিকপক্ষের মূল উদ্দেশ্যই যেন যেকোন ছলে বলে কৌশলে শ্রমিকদের ঠকিয়ে কিভাবে কত কম মজুরী দিয়ে কত বেশী খাটানো যায়।এই লক্ষ্য নিয়ে এইবারের মজুরী বোর্ডও তার কাজ শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে!
গার্মেন্টস শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে সরকার মজুরী বোর্ড গঠন করতে বাধ্য হয়। শ্রম আইনের বিধান মতে বোর্ড গঠনের ৬মাসের মধ্যে বোর্ডকে তার মজুরী প্রস্তাবনা সরকারের কাছে পেশ করতে হয় এবং সরকার সেই মোতাবেক প্রজ্ঞাপন জারী করে নতুন মজুরী কার্যকর করে। অথচ এইবার বোর্ড গঠনের ৬মাস পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩টি বৈঠক করেছে এবং সর্বশেষ বৈঠকে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষ তাদের যার যার প্রস্তাবনা দিয়েছে মাত্র।এরই মধ্যে ৬মাস পার হয়ে গেছে শুধুমাত্র মালিকপক্ষের গাফিলতি আর গড়িমসিতে।

জানা গেছে বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধির বিদেশ ভ্রমনের অছিলায় বেশিরভাগ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি, এখন আবার শোনা যাচ্ছে বোর্ডের চেয়ারম্যানের হজ্ব পালনের জন্য মজুরী বোর্ড এর সুপারিশ প্রনয়নের জন্য আরও ৩ মাস সময় লাগবে। অর্থাৎ মালিক সরকার মিলে ইতিমধ্যে ৯ মাস নষ্ট করার পরিকল্পনা হয়ে গেছে।

এতো গেল কালক্ষেপণ এর পায়তারা,অন্যদিকে মজুরী কত কম দেয়া যায় সেই পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।মজুরী বোর্ডের বিগত বৈঠকে মালিকপক্ষ মজুরী প্রস্তাব করেছে মাত্র ৬.৩৬০টাকা, যা বিগত মজুরী কাঠামোর চেয়েও কম। কারন বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট এর হিসাব করলেও বর্তমানে একজন হেল্পারের সর্বনিম্ন বেতন দাঁড়ায় ৬৪০০টাকা, অথচ মালিকেরা এর চেয়েও কমিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেছে ৬৩৬০টাকা। অর্থাৎ বেতন না বাড়িয়ে আরও কমিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে মালিকরা।

অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের নামে সরকার দলীয় শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিকে দিয়ে প্রস্তাব করানো হয়েছে ১২, ০২০টাকার।যেখানে আশুলিয়ার শ্রমিকরা বিগত ২০১৬ সালেই ১৫ হাজার টাকা মজুরী দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলো ও কেউ ১৮হাজার, কেউ ১৬ হাজার টাকা দাবি করেছে। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসাবে কিভাবে ১২,০২০টাকা দাবি করে? তাছাড়া মাত্র কয়েকদিন আগেই সরকারী কলকারখানার শ্রমিকদের জন্য ১৭, ২০০টাকা নির্ধারন করা হয়েছে।তাই মালিক সরকারের এই প্রস্তাব সম্পূর্ন অসৎ উদ্দেশ্যমূলক বলেই মনে করছে শ্রমিকরা।

প্রকৃতপক্ষে একজন শ্রমিকের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১৮ হাজার টাকার নিচে কোনভাবেই বেচে থাকা সম্ভব নয়। তাই প্রকৃতভাবে মজুরী নির্ধারন করতে গেলে এই মাছবাজার সুলভ মানসিকতা থেকে ও মালিকদের বেরিয়ে আসতে হবে।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution